দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

পুত্রবধূ ও কিশোরী মেয়েকে রক্ষার্থে পরকীয়া প্রেমিক মজিবরকে খুন

Madaripur 05-03-13 (Dead Body Recover)‘মাকে খেয়েছি, পুতের বৌকে টেস্ট করেছি, এবার মেয়েকে খাব’-এলাকার হাট-বাজারে এই ধরণের প্রচারের কারণেই খুন হয় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মধ্য শাখারপাড় গ্রামের মজিবর হাওলাদার। চাঞ্চল্যকর মজিবর হত্যা রহস্যের জট খুলেছে। পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের কথা গোপন না রেখে বাইরে প্রকাশ করে দেওয়া, নিজ পুত্রবধূর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা ও নাবালিকা মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত পাঁচ সন্তানের জননী কোহিনুর বেগম আরেক প্রেমিককে দিয়ে হত্যা করে দীর্ঘদিনের প্রেমিক দুই সন্তানের জনক মজিবর হাওলাদারকে।
এদিকে এই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাদী নিহত মজিবরের ভাই হাবিব হাওলাদার বিভিন্নজনের নিকট চাঁদাও দাবী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রকৃত সত্য গোপন করে শুধুমাত্র গ্রাম্য শত্রুতা উদ্ধার ও বিশেষ ফায়দা লুটতে নিরীহ লোকদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
হত্যার পরিকল্পনাকারী কোহিনুর বেগম গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে কোহিনুর পুলিশকে এবং ১৬৪ ধারা আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দীতে জানায়, ‘আমার সহজ সরল স্বামী সার্কাস পার্টি কর্মী হওয়া নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতো । আমি বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে থাকতাম। ১২ থেকে ১৩ বছর পূর্বে এই গ্রামের সিরাজ শেখ খুন হয়। এ মামলার আসামী ছিল মজিবর। এ কারণে মাঝে মাঝেই রাতে এসে আমাদের ঘরে পালিয়ে থাকতো। সম্পর্কে চাচী হলেও তার সাথে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় এবং একদিন একা পেয়ে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর থেকে অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। ৮ মাস পূর্বে মজিবর পরিচয় করিয়ে দেয় তার বন্ধু পাশের গ্রামের চিন্দুর সাথে এবং অবৈধ সম্পর্কে কথাও জানিয়ে দেয়। আসা যাওয়ার সুযোগে চিন্দুর সাথেও সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং চিন্দু আমাকে জিম্মি করে ফেলে ও অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে ছেলেরা বড় হয়। মেয়েও বড় হয়, তার বয়স এখন ১৩ বছর। বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ঘরে পুত্রবধূ আনি। প্রেমিক মজিবরের লোলুপ চোখ পড়ে পুত্রবধূর উপর। এক পর্যায়ে মজিবর আমার পুত্রবধূর সাথেও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এরপর তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমার নাবালিকা মেয়ের উপর। তাকেও ভোগ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে মজিবর। হাট-বাজারসহ নানা জায়গায় বলে বেড়ায় ‘মাকে খেয়েছি, পুতের বৌকে টেস্ট করেছি, এবার মেয়েকে খাব।’ এতে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি এবং প্রেমিক মজিবরের হাত থেকে পুত্রবধু ও নাবালিকা মেয়েকে রক্ষায় আরেক প্রেমিক চিন্দুর সাহায্য কামনা করলে সে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং হত্যা পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা মাফিক ২ মার্চ শনিবার রাতে ফোন করে যাত্রা গানের আসর থেকে মজিবরকে ডেকে এনে আমার ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রেখে চিন্দুকে খবর দেই । চিন্দু ও তার তিন সহযোগিরা এসে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় ফাস লাগিয়ে মজিবরকে হত্যা করে বস্তাবন্দী করে কুমার নদীতে ফেলে দেয় । পুলিশ ৫ মার্চ কুমার নদীর পাড় থেকে মজিবরের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে । এক পর্যায়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যাই। একবার মনে করেছিলাম পুলিশে ধরা দেব। টাকা না থাকায় থানায় যেতে পারিনি। বাদী যাদেরকে এ মামলায় আসামী করেছে তারা কেউই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয়। বাদী হাবিব হাওলাদার বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এজাহারভূক্ত আসামীদের নাম বলতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এমদাদুল হক জানায় ইতোপুর্বে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চিন্দু শেখ ও সহযোগী কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাও বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এদিকে এজাহারভুক্ত আসামীরা এ মামলা থেকে অব্যহতি চেয়েছে। অন্যদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পরেও মামলার বাদী মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
(প্রতিবেদন: খোন্দকার আবদুল মতিন, টেকেরহাট অফিস)

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.