দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

বিক্ষোভ করার পরও নৃশংসতাকারীরা কি পার পেয়ে যাবে?

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: অন্যায়-অপরাধ,কালকিনি,গুরুত্বপূর্ণ খবর,মাদারীপুর,মুক্তমত,সব সংবাদ |

Md Bellal Hossainনিহত বাবুল বেপারীর পা-টা কি আর উদ্ধার হবে না? এত মানুষের বিক্ষোভ করার পরও যদি পুলিশ পা উদ্ধার করতে না পারে তাহলে কি ওই ঘটনার নৃশংসতাকারীদের গতিরোধ করা যাবে? আমার কাছে কেউ এ প্রশ্ন করলে আমার উত্তর- না। কারণ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার অভাব ও অপরিপক্ক পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি)।
আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী ঘাটি কালকিনি উপজেলা। উপজেলার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নৌকা পন্থী। নৌকা মার্কার লোকদের প্রতি সহানুভূতি তাদের আজন্ম স্বভাব। আমরা যেহেতু স্বভাব পরিবর্তন করতে পারবো না তেমনি দল ক্ষমতায় থাকলে সরকার বা প্রশাসনিক সুবিধা বঞ্চিত হওয়াও মেনে নিব না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাদের নির্বাচিত করেছি তারা বিষয়টি সমাধানে ব্যর্থ হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। এটা বলে-কয়ে দিব না, সময়মত পেয়ে যাবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র সবাই আওয়ামীলীগের; তারপরও আমরা কেন সরকারি সুবিধা ঠিকমত পাচ্ছি না?
সরকারি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আমার জানামতে উপজেলায় পর্যায়ে উপজেলা চেয়াম্যানকে সভাপতি করে একটি করে কমিটি রয়েছে। স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা সম্পর্কিত সকল বিষয়ে কমিটি তদারকি করবে এবং কেউ চিকিৎসা না পেলে বা কারও অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা ওই কমিটির কাজ। কিন্তু হায়! কালকিনিতে দেখি উল্টো। স্বয়ং ইউএনও মোহাম্মদ ফজলে আজিম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ করলেন, গত ৫ বছরে কালকিনিতে স্বাস্থ্য কমিটির কোন মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত তার জানা নেই। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ডাক্তারদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাকটিস করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়; এজন্য তারা এখানে থাকতে চান না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডাক্তারের স্থলে এখন ৩ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। তারাও ঠিকমত হাসপাতালে বসেন না। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি করেন। উপায়তো নেই, না দৌড়াদৌড়ি করলে বদলী হয়ে যেতে হবে। তাই হাসপাতালে গেলে ডাক্তারের নাগাল পাই না- এ অভিযোগ আমি কার কাছে দিব? যার কাছে অভিযোগ দিব সেই যদি হয় অভিযুক্ত তাহলে ভোট দিয়ে কাউকে নির্বাচিত করার আর আমারমত লোকের দরকার কি? কারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের ব্যবসা করে তা সবাই জানে।
ওই কমিটির সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী হাসপাতালে ২৪ ডাক্তারের স্থলে ৩ ডাক্তার থাকার কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। দল ক্ষমতায় থাকার পরও তার এ হতাশার সুর আমি মেনে নিতে পারি না। কারণ আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে এই ব্যর্থতার দায়ভার তাকেও নিতে হবে।
হাসপাতালের মত কয়েকটি অফিসে সেবা দেয়ার নামে সাধারণ মানুষকে চরমভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। সেটলম্যান্ট অফিসের কথা মনে হলেতো আমার মাথা ঘুরে যায়। না, প্রতিবাদ করতে হবে আমাদেরই। আমরা প্রতিবাদ করলেই কি জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা ছাড়া ন্যায় বিচার বা প্রাপ্য সেবা পাব?
চরদৌলতখান ইউনিয়নের একটি হিন্দু পল্লীতে গণধর্ষণের ঘটনায় হাজার হাজার এলাকাবাসী ন্যায় বিচার পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, পোষ্টারিং করেছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও কি হয়েছে। পুলিশকি একজন ধর্ষককেও গ্রেফতার করতে পেরেছে? আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে কি থানার ওসিকে বিষয়টি সম্পর্কে জবাবদিহি করিয়েছেন? এটা তাদের দায়িত্ব ছিল কিন্ত হয়নি। একই ইউনিয়নে কয়েকদিন আগে ব্যবসায়ী বাবুল বেপারীকে কয়েকজন সন্ত্রাসী কুপিয়ে তার একটা পা কেটে নিয়ে উল্লাস করেছে। কি বর্বর! মানুষ এটা করতে পারে! খুনতো অন্য ভাবেও করতে পারতো। পা ছাড়াই বাবুল বেপারীকে দাফন করা হয়। তার জানাযায় উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, পৌর মেয়র এনায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ওই ঘটনায় এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা থানাও ঘেরাও করে। থানা ঘেরাও করার ঘটনা এবারই প্রথম কালকিনিতে। প্রায় ৫ হাজার লোকের এই কর্মসূচি দেখে আমার মনে হয়েছে, আমরা এখন আর ঘুমিয়ে নেই, দাবি আদায়ে সচেতন হয়েছি। কিন্তু বিধি বাম! না এবারও হল না। পুলিশ নিহত ওই ব্যবসায়ীর পা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি কোন ঘাতককেও গ্রেফতার করেনি।
আন্দোলন হয়েছে কিন্তু তারপরও কোন অগ্রগতি নেই; তাহলে ওই সাধারণ মানুষ এখন ন্যায় বিচার পেতে কই বা কার কাছে যাবে। ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া কাকে অনুরোধ করার অধিকার রাখে তারা?
একটি অসমর্থিত সূত্রমতে, মো: নাজমুল হুদা একজন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে কালকিনি থানায়ই প্রথম নিয়োগ পান। তাকে সহযোগীতা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ড. আবদুস সোবহান ওরফে গোলাপ। নতুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে হিমশীম খেতে হচ্ছে।
নাজমুল হুদার সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, থানায় কর্মরত এসআই, এএসআই পুলিশ পদমর্যাদার অফিসারদের তিনি সমন্বয় করতে পারছেন না। কোন কিছুর বিষয়ে তার কাছে কখনো জানতে চাইলে তিনি দায়ভার ওই অফিসারদের প্রতি ইঙ্গিত করেন। দায় এড়িয়ে যেতে চান। এতে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
শুনেছি, বাবুলের পা কেটে নেয়া নৃশংসতাকারীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামীন আনার জন্য চেস্টা করছেন। জামীনে এসে তারা এলাকায় ফিরবেন। আর মনের দু:খে নিরবে-নিভৃতে কাঁদবেন নিহত বাবুলের স্বজনরা। এভাবেই কি বহমান থাকবে আমাদের কালকিনি! এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।
(লেখক : মো: বিল্লাল হোসেন, সম্পাদক- কালকিনি.নেট, কালকিনি, মাদারীপুর , মোবাইল-০১৭১০৩৫১০৮৯)

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.