দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

রাজৈর উপজেলা মুক্ত দিবস আজ

Madaripur 04-12-13 (Rajoir Mukto Dibos) (1)জহিরুল ইসলাম খান : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকেই মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পাক হানাদার বাহিনী আস্তানা গড়ে তোলে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ শুরু করে আগস্ট মাসের প্রথম দিক থেকে। একাত্তরের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পর্যুদস্ত পাক হানদার বাহিনী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা থেকে পালিয়ে পাশের গোপালগঞ্জের মুকসদুপুরের ছাগলছিড়া এলাকায় চলে যায় এবং সেখানে ১৩৫ জন পাক হানাদার বন্দী হয়। মুক্ত হয় রাজৈর উপজেলা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কমলাপুর, পাখুল্যা, লাউসার, কদমবাড়ি ও মহিষমারী, ইশিবপুর ও কবিরাজপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর সাথে লড়াই করে। পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ রাজৈর বড় ব্রীজ, আমগ্রাম ব্রীজ ও টেকেরহাটে। এর মধ্যে পাখুল্যায় মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। এখানে অংশগ্রহণ করেন সাবেক রক্ষীবাহিনীর ডেপুটি ডিরেক্টর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) সরোয়ার হোসেন মোল্লা। সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে যুদ্ধ। ১৯৭১ সালে ঈদের আগের রাতে বৌলগ্রামে পাকবাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখে মুক্তিযোদ্ধারা। এখানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান নৌ-পরিবহন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান। মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর মধ্য রাতে পাকবাহিনী রাজৈর ছেড়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে মুক্তিযোদ্ধারা টেকেরহাট বন্দরে তাদের আক্রমণ করেন। পাকবাহিনী পালিয়ে গোপালগঞ্জের ছাগলছিড়া নামক স্থানে পৌছলে স্থানীয় গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর সহায়তায় ১৩৫ জন পাক হানাদারকে বন্দী করেন মুক্তিযোদ্ধারা। ৪ ডিসেম্বরের ভোরের আলো নিয়ে আসে এই উপজেলাবাসীর স্বাধীনতার বারতা।
রাজৈর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সেকান্দার আলী শেখ জানান, স্বাধীনতার পর গত বছরই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয় মুক্ত দিবস। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবার মুক্ত দিবস উপলক্ষে তেমন কোন কর্মসূচী হাতে নেয়নি মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত কোন স্থানে এখনও নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.