দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

গুলি ও বেয়নেটের আঘাতের পরও বেঁচে থেকে অসহায়

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,মাদারীপুর,মুক্তিযুদ্ধ,সব সংবাদ |

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় যখন দ্বারপ্রান্তে তখন একদিন পাকবাহিনী ও তার দোসরদের হাতে শহীদ হন মাদারীপুরের মিঠাপুর এলাকার শতাধিক মানুষ। অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত পাকবাহিনীকে রাজাকাররা পথ চিনিয়ে নিয়ে আসে মিঠাপুরের শিকদার বাড়িতে। সেই সময় পাকবাহিনীর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি নিত্যগোপাল ঠাকুর (৭১), বর্তমানে বুক ও পিঠে গুলি ও বেয়নেটের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন।
তিনি জানালেন, সেইদিন শিকদার বাড়ি ও আশ-পাশের প্রায় শতাধিক মানুষকে লাইনে দিয়ে দাড় করিয়ে গুলি করা হয়। বাম হাতে গুলি লাগার পর পরই তিনি পড়ে যান। পরবর্তীতে তার পিঠে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পিঠে আঘাত করা বেয়নেট শরীর ভেদ করে শরীরের অপরদিক পেট ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা মনে করে আজও তিনি শিহরিত হয়ে ওঠেন। সেই সময় শারীরিক ও আর্থিক অবস্থা অনেক ভাল ছিল। যুদ্ধের সময় বাড়ি-ঘর ও ধন-সম্পত্তি ছেড়ে পালিয়ে পালিয়ে চিকিৎসা নেন।
নিত্যগোপাল ঠাকুর বলেন, রাজাকার রব খন্দকার, মজিবর ও লতিফসহ কয়েকজন পাকিস্তানীদের এলাকায় নিয়ে আসে। তাদের উপস্থিতিতে আমাকে গুলি করা হয়। আমি রাজাকারদের বিচার চাই।
এক সময় নিত্যগোপাল ঠাকুরের পারিবারিক ঐতিহ্য ছিল। ছিল ধন-সম্পদের প্রাচুর্য্য। যুদ্ধের সময় লুট হয় বাড়ির টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কারসহ সমস্ত সম্পত্তি। সেই থেকে অসহায় জীবন-যাপন।
তার ছেলে জয়গোপাল ঠাকুর জানান, আমরা দেশের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশাও করি না। গুলি ও বেয়নেটের আঘাতের পরও আমার বাবা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন। তার কথা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না, তার নেই কোন স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নয়, আমার বাবা কি যুদ্ধাহত বা অন্য কোন ধরণের স্বীকৃতি পেতে পারে না?

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *