দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার লাশ মাদারীপুরে দাফন

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,মাদারীপুর,মুক্তিযুদ্ধ,সব সংবাদ |

BenQ Corporationস্বাধীনতার ৪৩ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাদল’এর লাশ সোমবার বিকেলে মাদারীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাদারীপুর শহরের সবার পরিচিত মুখ মফিজুর রহমান বাদল। সবাই বাদল নামেই চিনে। ভালো ফুটবল খেলতো। লেখাপড়ায়ও ভালই ছিল। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস। সদ্য লেখাপড়া শেষ করে ক্যাশিয়ার পদে চাকুরি শুরু করেছেন যশোরের ইউনাইটেড ব্যাংকে। ৪ এপ্রিল পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী যশোর-খুলনা মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা করে। এ সময় যে যার মত পালিয়ে বাঁচে কিন্তু ৭/৮ বছরের একটি ছেলে পালাতে না পেরে বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। শিশুটিকে বাঁচাতে ছুটে যায় বাদল। শিশুটির চিৎকার বাদলের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও ছুঁতে পারেনি হানাদারদের হৃদয়। এ সময় হানাদাররা এলোপাথারি গুলি ছুড়লে তাদের গুলিতে শহীদ হন বাদল। এরপর হানাদার বাহিনী চলে গেলে স্থানীয়রা তাকে একটি নির্জন স্থানে দাফন করে। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে শহীদ বাদলের পরিবারের সদস্যরা বহুকষ্টে তার কবরস্থান খুঁজে বের করেন। পরবর্তীতে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য বহুবার চেষ্টা করেন বাদলের স্বজনরা। বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে হয়ে ওঠেনি। বাদলের বাবা আব্দুল মজিদ হাওলাদার ছেলের কবর না দেখার কষ্ট নিয়েই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন কয়েক বছর আগে। অবশেষে এবছর ৯ মার্চ যশোর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় যশোর শহরের বকচর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ঘন্টা পুরানো কবর খনন করে বের করে আনা হয় শহীদ বাদলের মাথার খুলিসহ হাড়গোড়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তবুও তাদের শান্তনা তারা শহীদ বাদলের দেহাবশেষ পেয়েছেন।
যশোর শহরের বাদলের কবর যেখানে দেওয়া হয়েছিল সেই জায়গার মালিকের ছেলে মোঃ গিয়াসউদ্দিন জানালেন, এত বছর আমরা ওই কবরটি যতœ করে রেখেছিলাম এবং কবরের পাশে এখন নতুন ভবন হলেও কবরের জায়গা আগের মতই আলাদা থাকবে।
বাদলের লাশ আনতে মাদারীপুর থেকে যশোরে যান তার ভাই হাজী খলিলুর রহমান, হাজী মতিউর রহমান, হাজী মজিবর রহমান, মোকলেসুর রহমান, বোন আয়শা করিম, ভাতিজি রওশনারা রুবি, ভাগ্নে রাজীব করিবসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
শহীদ বাদলের ভাই হাজী খলিলুর রহমান বলেন, আমরা শোকের মাঝেও আজ কিছুটা হতাশা থেকে কেটে উঠেছি। ৪৩বছর পরও ভাইয়ের শরীরের এত কিছু পাবো ভাবতে পারিনি।
শহীদ বাদলের ভাই মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বলেন, কষ্টের মাঝেও ভালো লাগছে এই ভেবে যে দীর্ঘ ৪৩ বছর পরে আমরা আমাদের ভাইয়ের দেহাবশেষ পেয়েছি। এখন পারিবারিক কবরস্থানে দাফল করা হল তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছি এবং আগামীতে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে পারবে পরিবারসহ নতুন প্রজন্ম।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *