দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

এক চালাক শিয়ালের গল্প: কে এম, রাশেদ কামাল

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: প্রধান সংবাদ,মাদারীপুর,মুক্তমত,সব সংবাদ |

Rashed _Sialer Galpoএক চালাক শিয়ালের গল্প: কেএম রাশেদ কামাল: বহুদিন পূর্বের কথা। একটি খেজুর গাছে একটি ঘুঘু বাসা বেধেছিল। ঘুঘুটি ছিল খুবই সহজ-সরল প্রকৃতির। কোন রকম চালাকি সে বুঝত না। সর্বদা হাসি-খুশি থাকত। কয়েকদিন পরে ঘুঘুটি দুটি ডিম পাড়ল এবং নির্দিষ্ট সময় পরে বাচ্চাও ফুটল। খেজুর বাগানের একটু দূরেই ছিল বিশাল এক জঙ্গল। সেখানে বাস করত এক চালাক শিয়াল। সে ঘুঘুটির দুটি বাচ্চা হওয়ার খবর পেল। আর পরিকল্পনা করল কিভাবে ঘুঘুটির বাচ্চা দুটি খাওয়া যায়। তাই একদিন চালাক শিয়াল খেজুর গাছের নিচে এসে ঘুঘুকে লক্ষ্য করে হুংকার দিয়ে বলল- হে ঘুঘু, তোমার বাচ্চা দাও আমাকে। ঘুঘুটি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিল যে, বাচ্চা দেয়া যাবে না। এবার ধূর্ত শিয়াল গাছের নিকটে এসে গাছে ওঠার ভান করে বলল, ঐ ঘুঘুর বাচ্চা, আমি যদি গাছে উঠি তবে কিন্তু তোকে বাঁচতে দেবনা। তোর বাচ্চাতো খাবই তোকেও আসতে হবে আমার পেটে। সুতরাং নিজের জান বাঁচাতে হলে সময় থাকতে তোর বাচ্চা ছুড়ে দে আমার জন্য। আমি কিন্তু বাপু এক কথা দুই বার বলতে পারব না। সরল-সোজা ঘুঘুটি নিজের জানের ভয়ে অবশেষে কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চা দুটিকে শিয়ালের দিকে নিক্ষেপ করল। আমাদেরকে ফেল না মা, আমাদেরকে ফেল না, শিয়াল আমাদের খেয়ে ফেলবে- বলে চিৎকার করতে করতে বাচ্চা দুটি নিচে পড়ে গেল। বাচ্চাদের করুণ চিৎকার শুনে ঘুঘুটি অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগল। নিচে পড়া মাত্রই পাজি শিয়াল খপ করে খেয়ে ফেলল বাচ্চা দুটোকে। খাওয়া শেষে ঘুঘুকে থ্যাংকস দিয়ে মহা আনন্দে শিয়াল চলে জঙ্গলে।
মাস দুয়েক পরে ঘুঘুটি আবার দুটি বাচ্চা ফুটাল। বাচ্চারা প্রায় একা একা খেতে পারে। এবার চিন্তায় ঘুঘুটির ঘুম আসেনা। পাছে ভয় হয় যে বাচ্চারা বড় হতে যাচেছ। কখন যেন শিয়াল এসে পড়ে। আর সে তো আসবেই। আর তাকে মা হওয়া সত্বেও নিজের জানের ভয়ে হলেও বাচ্চাদের শিয়ালের হাতে তুলে দিতে হবে। চিন্তিত মনে বসে আছে ঘুঘু পাখিটি। এমন সময় ঐ পথ ধরে তার এক নিকট আত্মীয় বক যাচ্ছিল নদীর পাড়ে। নদীর পাড়েই বকের বাসা। ঘুঘুর সাথে দেখা হলে তাকে চিন্তার কারণ জিজ্ঞেস করল। কি হে ঘুঘু মিয়া! বসে বসে কি চিন্তা করছ? তোমাকে তো একেবারে রোগা মনে হচ্ছে। কোন প্রবলেম? ঘুঘু বলল, তোমাকে বলে আর লাভ কি ভাই? বক তাকে অনুরোধ করে বলল, যদি কোন উপকার করতে পারি। দয়া করে খুলে বল তোমার সমস্যাটা। ঘুঘুটি তার চিন্তার কারণ খুলে বলল। আর ওমনি চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। ঘুঘুর কথা শুনে বক বুঝতে পারল যে, সে পাজি শিয়ালের ফান্দে পড়েছে। সোজা প্রকৃতির বলে শিয়াল তাকে ব্লাকমেইল করছে। বলল হায়! হায়! তুমি অনেক বড় ভুল করছ ভাই। কেন তুমি মা হয়ে বাচ্চাদেরকে এভাবে শিয়ালের হাতে তুলে দিচ্ছো? না দিলে সে তোমার কোন ক্ষতিই করতে পারত না। কারণ শিয়াল কোন দিন গাছে উঠতে পারে না। তোমাকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে তোমার বাচ্চা খেয়েছে সে। সে বড়ই ধূর্ত বুঝলে। শোন, আবার যদি শিয়াল আসে এবং তোমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে তোমার বাচ্চা খেতে চায় তবে তাকে কঠিন জবাব দিয়ে দেবে। বলবে পারলে গাছে উঠে খেয়ে যাও। সে কোন দিন গাছেও উঠতে পারবে না আর তোমার কোন ক্ষতিও করতে পারবে না। সে বড়ই ধোকাবাজ। বাসা ভেঙ্গে দেবে, তোমাকে, তোমার বাচ্চা খেয়ে ফেলবে এসব মিথ্যা কথা। তুমি আর তাকে ভয় পাবে না কেমন, আমি এবার আসি। এই বলে বক বিদায় নিল। ঠিক পরের দিনই পাজি শিয়াল আবার এসে হাজির হল এবং পূর্বের ন্যায় ঘুঘুকে হুমকি ধমকি দিয়ে তার বাচ্চা খেতে চাইল। বলল তাড়াতাড়ি বাচ্চা দাও, আমার এখন ভীষণ ক্ষিধে। তাছাড়া অনেক ব্যস্ততা আছে। এবার ঘুঘু বকের শিখিয়ে দেয়া কথাগুলো তোতা পাখির মত বলে দিল। বলল তোমাকে বাচ্চা দেয়া যাবে না। শিয়াল ভেবেছিল এবার তাকে বেশি কিছু বলতে হবে না। ঘুঘুর কথা শুনে রাগের ভান করে বলল- কি বললে তুমি, বাচ্চা দেবে না? এত বড় কথা, আমি গাছে উঠলে তোমাকে কিন্তু উচিত শিক্ষা দেব। ঘুঘু বলল আমি জানি তুমি গাছে উঠতে পার না। পারলে গাছে উঠে বাচ্চা নাও আর আমাকে আক্রমণ কর। চালাক শিয়াল দেখল অবস্থা তো বেগতিক। ঘুঘু তো এত চালাক ছিল না। নিশ্চয় এই বলদকে কেউ এটা শিখিয়ে দিয়েছে। চালাক শিয়াল এবার নরম কন্ঠে বলল, ঘুঘু তোমাকে এসব কথা কে শিখিয়ে দিয়েছে? সরল-সোজা ঘুঘু অকপটে বলে দিল, এসব কথা আমাকে বক ভাই শিখিয়ে দিয়েছে। শিয়াল জানতে চাইল বকের বাসা কোন এলাকায়। এবারও নিরীহ ঘুঘু বলে দিল ‘বক’ তার ছেলে মেয়ে নিয়ে নদীর পাড়েই থাকে। আচ্ছা ঠিক আছে- এই বলে চালাক শিয়াল চলে গেল।
শিয়াল এবার নদীর পাড়ে বকের সন্ধানে যাচ্ছে আর মনে মনে বলছে ব্যাটা বক কত ধানে কত চাল তা তোমাকে আমি বুঝিয়েই ছাড়ব। নদীর পাড়ে গিয়েই দেখল যে বেচারা বক নদীর কিনারায় বসে আছে। শিয়াল গিয়েই সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করল। বলল কেমন আছ বক মামা? বক বলল মোটামুটি বেঁচে আছি। ইদানিং মাছ খুব একটা পাচ্ছিনা। তবুও ভালই আছি। এবার দুইজনে নদীর পাড়ে বসে কথা বলাবলি শুরু করল। এক পর্যায়ে শিয়াল বককে বলল বক মামা, তোমাকে একটা কথা বলব মাইন্ড করবে না তো? বক বলল ‘ডোন্ট মাইন্ড’ তুমি বলতে পার। এবার শিয়াল বকের সৌন্দর্যের বর্ণনা শুরু করল। ‘বক মামা, আমার মনে হয় পৃথিবীতে যত পাখি আছে তার মধ্যে তুমিই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। কত সুন্দর তোমার ঠোট। আর পা দুটোর তো কোন তুলনাই হয় না। তোমার ডানা দুটি আরো মনোমুগ্ধকর। তোমার চেয়ে সুন্দরী পাখি আর দ্বিতীয়টি আমি দেখিনি।’ বক শিয়ালের প্রশংসার কারণ বুঝতে পারল না। সে শিয়ালের এ মিথ্যা প্রশংসায় খুব খুশী হল। তবুও বলল, আমাকে লজ্জা না দিলেই কি নয়? শিয়াল বলে সত্যি বলছি মামা নিশ্চয় তুমি অপরূপ। আচ্ছা মামা তুমি তো নদীর পাড়েই থাক তাইনা? কিন্তু যখন তোমার ডান দিক থেকে প্রবলভাবে বাতাস বইতে থাকে তখন তুমি কেমন কর? তখন আমার ঠোট বাম দিকে রাখি- জবাব দেয় বক। শিয়াল বলে বাম দিক থেকে আসলে ? বক বলল কেন ডান দিকে রাখি। শিয়াল বলল সত্যিই বক মামা তোমার বুদ্ধি অতুলনীয়। আচ্ছা যখন ডান, বাম এবং সামন দিক থেকে বাতাস আসে তখন তুমি কি কর? এমনটি হলে আমি আমার ঠোট দুটোকে দুই ডানার নিচে লুকিয়ে রাখি। আর তখন বাতাস আমার গায়ে লাগছে বলে মনেই হয়না- বলল বক। এসব শুনে ধূর্ত শিয়াল হা হা করে হেসে দিল বলল এটা কি আদৌ সম্ভব? মামা তুমি মনে হয় আমার সাথে মজা করছ। প্রচন্ড বাতাসে এটা সম্ভব হয় বলে আমার বিশ্বাস হয় না। শিয়ালের এই হাসির আড়ালে ছিল জিলাপির প্যাচ। কিন্তু সহজ সরল বক এটা বুঝতে পারেনি। বক বলল অবশ্যই এটা সম্ভব। চালাক শিয়াল বলল – কী আজব ব্যাপার!  এটা যদি সম্ভব হয় তবে আমাকে প্রাকটিকাল দেখাও তো। এবার বক বলল, কে বলছে এটা অসম্ভব? যেহেতু বিশ্বাস করছনা তবে দেখেই যাও- এই বলে বক তার দুই ঠোট ডানার নিচে লুকিয়ে ফেলল। চালাক শিয়াল এ সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিল। সুযোগ আর হাত ছাড়া করল না সে। খপ করে আক্রমণ করে বসল বকের উপর। কামড় দিয়ে মুখে পুরে নিয়ে বলতে লাগল, ‘হে নিজের শত্রু, তুমি ঘুঘুকে আমার হাত থেকে বাঁচার কৌশল শিখিয়েছ; কিন্তু তুমি জাননা যে তোমার নিজের বাঁচার জন্যেও বুদ্ধির প্রয়োজন।’

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.