দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

পদ্মারচরে বজলু সরকার আতঙ্ক

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: অন্যায়-অপরাধ,গুরুত্বপূর্ণ খবর,রাজনীতি,শিবচর,সব সংবাদ |

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান সরকার ও তার বাহিনীর কাছে  পদ্মারচরের প্রায় ২৫ হাজার নিরীহ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রনের কারনে পদ্মারচরে বেশ কিছু গ্রামের মানুষ এখন এলাকা ছাড়া।
শনিবার সকালে নির্যাতিত পরিবারগুলোর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, চাঁদাবাজী, দখলদারী, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, জলদস্যুতা, ডাকাতি, নদী দখল, ভূমি দখল করে রেখেছে বজলু সরকার বাহিনী। শুধু চরজানাজাতেই নয় পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়ি ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের আরো প্রায় ২০ হাজার মানুষ তার বাহিনীর হাতে জিম্মি। এ সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও শারিরীক নির্যাতন করায় এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে অনেককেই। সম্প্রতি এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন করে তার ভাতিজা শাহীন সরকার। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রশাসনের চাপের মুখে চেয়ারম্যান বজলু সরকার শাহীনকে জুতাপেটা করে। এতে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পরিবারের সদস্যকে হত্যার হুমকি দেয়। যে কারনে ওই পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গত ইউনিয়ন নির্বাচনে মালেক আকনের সাথে বজলু সরকারের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ফলে তার চাপের মুখে মালেক আকন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি সামাদ চৌধুরীকান্দির মালেক বাড়ৈ পারিবারিক দ্বন্দ্বে নিজ স্ত্রীর হাতে খুন হয়। এ ঘটনার পর তার স্ত্রী পালিয়ে যাবার সময় নুর ইসলাম সরকার নামের বজলু সরকারের এক সন্ত্রাসীর হাতে আটক হয়ে ধর্ষনের শিকার হয়। পরে নির্যাতিত ওই নারীকে পুলিশে সোর্পদের কথা বলে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় নুর ইসলাম। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হলে ওই নারীর কাছ থেকে আরো ৪ লাখ টাকা নিয়ে তার স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে মেডিকেল সার্টিফিকেট এনে দেয় বজলু সরকারের লোকজন। এরপর বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্রমাগত তার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে থাকলে ওই নারী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এলাকার সোনাই মোল্লার ছেলেকে মিথ্যা গরু জবাইর অভিযোগ এনে শারীরিক নির্যাতন করে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে। ফলে ওই পরিবারটি লজ্জায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সোনাই মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। সোনাই মোল্লা আরো বলেন, শুধুই আমি নয় এলাকার ৪০-৫০টি পরিবার মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজির ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। চেয়ারম্যান বজলু সরকার সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এ বিশাল চর অঞ্চলকে তার সা¤্রাজ্য বানিয়ে নিয়েছে। তিনি ও তার বাহিনীর কাছে নিরীহ কৃষক ও জেলেরা জিম্মি হয়ে রয়েছে। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলেও চাঁদা দিতে হয়। তার চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক থেকে রেহাই পাচ্ছেনা কেউ। স্কুল শিক্ষক, মাদ্রাসা মাওলানা কেউই তার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। স্থানীয় মান্নান বেপারী, আলতাফ বেপারী, নাসিরউদ্দিন বেপারীসহ ২০-৩০টি পরিবারের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে তার বাহিনীর লোকজন। অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ মান মর্যাদা ধ্বংস করা হচ্ছে ওইসব পরিবারের। অনেকেই মান সম্মানের ভয়ে চেয়ারম্যান মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছে। শক্রতার উদ্ধারের জন্য গোপনে বেশ কয়েকজনের বাড়িতে ভাঙ্গা পিস্তল, অকেজো গুলি রেখে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তার ও তার বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই চায় অসহায় পরিবারগুলো।
চরজানাজাত এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকা জজকোর্টের শিক্ষানবীশ আইনজীবী নাসিরউদ্দিন বেপারী বলেন, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, দখলদারী, জল দস্যুতা, জমি দখলসহ এমনই কোন কাজ নেই যা বজলু সরকার ও তার বাহিনী সদস্যরা করে না। আমরা এলাকার সচেতন মানুষ আমরা চাই বজলুর সরকার ও তার বাহিনীর হাত থেকে এলাকাবাসী রেহাই পাক। অশান্ত চরজানাজাত এলাকায় আবার শান্তি ফিরে আসুক।
চরজানাজাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান সরকারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত (০১৭৬৭৪৪৬১১৭ ও ০১৭৪৫৬৪০২৯৬) মোবাইল নম্বর ২টি বন্ধ পাওয়া যায়।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *