দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

প্রতীক নিয়ে বিব্রত প্রার্থী ও ভোটার উভয়ের মনেই অসন্তোষ

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,রাজনীতি,সব সংবাদ |

জহিরুল ইসলাম খান: এবারের পৌর নির্বাচনে বরাদ্দকৃত প্রতীক নিয়ে বিব্রত মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর সবাই। শুধু প্রার্থীরাই নয় এ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের মনেও। এমন প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে যা সব শ্রেণীর মানুষ অপরিচিত। অনেক প্রতীক অবমাননাকর সেবেই বিবেচিত। অসন্তোষ নিয়ে বাধ্য হয়েই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের ধারণা, বয়স্ক ও অশিক্ষিত ভোটাররা ভোট দিয়ে গিয়ে সমস্যায় পড়বেন তা প্রায় নিশ্চিত দাবী ভোটারদের।
সরেজমিনে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ফিরোজা বেগম শহরের সুমন হোটেল এলকায় তার আরো দুই নারী কর্মীকে নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত। ভোট চাইছিলেন হারমোনিয়াম মার্কায়। এমন সময় এক চায়ের দোকান থেকে কেউ একজন বললো, আপা মার্কাতো হারমোনিয়াম, একটা গান শুনিয়ে যান। ফিরোজা বেগমসহ তার সাথে প্রচারকর্মীরা বিব্রত। কিন্তু ভোটার অখুশী হবেন, তাই এই কথা হজম করেই হাসি মুখে প্রচারণা চালিয়ে যান ফিরোজা বেগম।
অপরদিকে মার্কা চেনানোর জন্য বড় আকৃতির পুতুল নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী দুলালী খানমকে।
এবারে পৌর নির্বাচনে প্রায় সব নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের জন্য বরাদ্দকৃত হারমোনিয়াম, ভ্যানিটি ব্যাগ, কাঁচি, চুরি, পুতুল, মৌমাছির মত প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় বিব্রত।
এদিকে অনেক প্রতীক নিয়ে পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও আরো বিব্রত। উটপাখি, পানির বোতল, টেবিলল্যাম্প, গাঁজরসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক সব শ্রেণীর ভোটার চিনতে পারবেন কিনা সেই বিষয়ে প্রার্থীরা সন্দিহান।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী অমিত ভূইয়া বলেন, আমার প্রতীক ব্রিজ। কিন্তু ব্যালট পেপারে এমনকি আমার ছাপা পোস্টারে প্রতীক এমন হয়েছে যে ভোটাররা চিনতে পারবেন কিনাসেই ব্যাপারে আমি চিন্তিত।
এদিকে তার কর্মী-সমর্থকদের দেখা গেলো এই যে ‘পদ্মা সেতুর ব্রীজ’ মার্কা বলে ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে।
একই অভিযোগ গাজর মার্কার প্রার্থী কাউন্সিলর মোফাজ্জেল হোসেন খান মফার। তিনি বলেন, পোস্টার এবং ব্যালটে গাজর প্রতীক বোঝা যায় না। অনেকেই বলছেন মুলা। কারণ সাদা-কালো পোষ্টারে গাজর দেখতে অনেকটা মূলার মতই মনে হয়।
এদিকে বিগত নির্বাচনগুলোর মত এবার প্রতীক না দেখতে পেয়ে ভোটাররাও হতাশ। প্রতীক পাওয়ার পর টাঙানো পোষ্টারে প্রতীকগুলো দেখে বিভিন্ন আলোচনা, এমনকি হাস্যকর কৌতুকও চলছে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার চায়ের দোকানে। কাউন্সিলর পদে গাজর প্রতীক সাদা কালো পোষ্টারে দেখা যাচ্ছে মূলা হিসেবে। প্রায় এলাকার মানুষের কাছে উটপাখি অপরিচিত। ভোটারদের ধারণা, বয়স্ক ও অশিক্ষিত ভোটাররা ভোট দিয়ে গিয়ে সমস্যায় পড়বেন।
সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মাসুদ সুমন বলেন, যেসব প্রতীক খারাপ অর্থ নির্দেশ করে বা যার প্রচারে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ ধারণা জন্মে সেই সব প্রতীক দেয়া ঠিক হয়নি। অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতীক রয়েছে সেগুলো নির্বাচন করা যেত।
কলেজছাত্র অজয় কু-ুর দাবী তরুণদের অনেকেই প্রতীক চিনতে পারলেও বয়স্কদের ভোট দিতে সমস্যা হবে। এছাড়া সব শ্রেণী মানুষ সমাজ শিক্ষিত ও বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন নয়। প্রতীকের কারণে সমস্যা যে হবে তা প্রায় নিশ্চিত।
মাদারীপুর শহরের চায়ের দোকানদার সিরাজের কাছে শুধুমাত্র ডালিম প্রতীকটি ভাল লেগেছে অন্য কোন প্রতীকই ভালো হয়নি। অপর চায়ের দোকানদার উজ্জ্বল ও নাইটগার্ড মহিউদ্দিনের অভিমত নৌকা, ধানের শীষ আর লাঙ্গল ছাড়া কোন প্রতীকই তার ভাল লাগে নি।
এদিকে প্রতীকের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্থায়ী প্রতীক বরাদ্দ এবং ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক বরাদ্দের কারণে এমনটি হয়েছে। নির্বাচনের শুরুতেই এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ব্রিফিং দিয়ে বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এবারের এই বিব্রতকর অবস্থা কিন্তু থাকছেই। এ নিয়ে কারো কিছুই করার নেই।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *