দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

মাদারীপুরে অনুমতি নেই, তবুও চলছে মেলার নামে জুয়া (ভিডিওসহ)

জহিরুল ইসলাম খান: জেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়নি কোন অনুমতি, শুধুমাত্র আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনও জেলা প্রশাসন থেকে কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। অথচ গত দশ থেকে বারো দিনের বেশি সময় ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদী হাটে চলছে র‌্যাফেল ড্র’র নামে জুয়া। নগদ লাখ লাখ টাকা, মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও প্রদান করা হয় র‌্যাফেল ড্র’ নামের লটারী জুয়া খেলায়।
এই ধরনের মেলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগে পরে আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে খোলা জায়গায় জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে কিশোর-তরুণ এমনকি অল্প বয়সীরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

(ভিডিওচিত্রে মাদারীপুরের ভান্ডারীকান্দি এলাকায় এমনই একটি মেলায় জুয়া খেলার দৃশ্য)।

গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনেও মাইকিং করে লটারির টিকেট বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় বিস্তারিত তথ্য। গত কয়েকদিন ধরে মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক ও ট্রাকে করেও বিক্রি করা হচ্ছে এই র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট। মাদারীপুর শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে মাদারীপুর সদর ও রাজৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীনদী এলাকায় এই মেলার আয়োজন শুরু হয় দুই সপ্তাহ আগে।

এসপি অফিস ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে থেকে তোলা ছবি

এসপি অফিস ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে থেকে তোলা ছবি

বিভিন্ন এলাকার লোকজন মোবাইল ফোনে জানিয়েছে যে, মেলার আয়োজনে সার্কাস ও অন্যান্য কেনা-কাটার সাথে কয়েকটি চটপটি-ফুসকা ও পোষাকের দোকানপাট শুধু লোক দেখানো। মূল উদ্দেশ্য র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট বিক্রি। এই লটারির ড্র’র তথ্য ক্যাবল টিভি’র মাধ্যমে পৌছে যাচ্ছে মাদারীপুর ও রাজৈর উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঘরে। আর লটারির টিকেট বিক্রির গাড়িও পৌছে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এতে মানুষজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ‘নিউ একতা র‌্যাফেল ড্র’ নামে এই লটারী খেলা মানুষের কাছে ইতিমধ্যেই জুয়ার মত নেশা হয়ে গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নাম ভাঙিয়ে এবং তহবিল সংগ্রহের দাবী করে এই মেলা ও র‌্যাফেল ড্র শুরু হয়। মেলার আয়োজকদের থেকে ওই তহবিলে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা করে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলেও জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত কারো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
মাদারীপুরে এর আগে কয়েকবার অনুষ্ঠিত এ ধরণের মেলায় র‌্যাফেল ড্র’র তথ্যমতে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকার টিকেট বিক্রি হয়। এক সময় টিকেটের মূল্য ছিল ১০ টাকা, আর এখন ২০ টাকা। লটারীর ড্র’তে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোটরসাইকেল, নগদ টাকাসহ ২ থেকে ৩ লাখ টাকার পুরস্কার দেয়া হয়। তার মধ্য থেকে ক্ষমতাবান বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেয়া কোন ব্যাপারই নয়। প্রতিদিন দিনে লটারি কিনে রাতে পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ লটারির উপর বেশ নেশাগ্রস্ত।
এদিকে মেলায় র‌্যাফেল ড্র’র নামে জুয়া খেলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস গত ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জানান, মেলা অনুমতি চেয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশী প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেলার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি র‌্যাফেল ড্র বা কোন অনৈতিক কাজ অনুমতি ছাড়া করে থাকে তবে তা সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়া হবে।

(ভিডিওচিত্রে: মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের বক্তব্য।)

এদিকে সর্বশেষ আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক ও একটি পিকআপে করে মোটরসাইকেল নিয়ে লটারীর টিকেট বিক্রি করতে দেখা গেছে।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *