দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

নয়াদিগন্তে মাদারীপুরের সাংবাদিক আকাশীকে নিয়ে বিশেষ ফিচার বা প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,বিশেষ প্রতিবেদন,মুক্তমত,সব সংবাদ |

নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফিচার পাতায় ৯ এপ্রিল মাদারীপুরের সাংবাদিক আয়শা সিদ্দিকা আকাশীকে নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। মাদারীপুরের এই নারী সাংবাদিকদের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে প্রতিবেদনটি মাদারীপুরে সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। স্থানীয় সাংবাদিকমহল ও ফেসবুকেও প্রতিবেদনটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মাদারীপুরের পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফিচারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
Naya Diganto and Ayesha Akashe

আয়শা সিদ্দিকা
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র নারী বার্তা সম্পাদক
চন্দ্রপ্রভা আকাশী
তারিখ: ৯ এপ্রিল, ২০১৩
পতিতা এক মায়ের সন্তানকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন মর্জিনা নামের এক নারী। কিছুতেই পতিতার সন্তানকে তার কাছে ফিরিয়ে দেবেন না। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন চলছিল পতিতা মা আর মর্জিনার মধ্যে দ্বন্দ্ব। খবর পেয়ে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনা ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা সুবর্ণগ্রামের বার্তা সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকা ছুটে যান লঞ্চঘাট বস্তিতে মর্জিনার বাসায়। পরের দিন বিকেলে সদর থানায় আসতে বলা হয় উভয় পক্ষকে। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় সন্তানকে তার নিজের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। এভাবেই কথাগুলো বললেন মানবাধিকারকর্মী সাবিনা ইয়াসমিন।
অপর এক মধ্য বয়সের নারী ফজিলাতুননেছা বলেন, আমার মাইয়্যারে এলাকার প্রভাবশালীরা অপহরণ কইর‌্যা নিয়া যায়। অনেক দিন পর আবার ফেরত দিয়া যায়। তহন আমার মাইয়্যা গর্ভবতী হইয়া পড়ে। ছেলেসন্তান জন্ম দেয়। বিচার চাইয়্যা কত মাইনষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কেউ সাহায্য করে নাই। তহন বিটিভির সাংবাদিক বাদল ভাই বলেন সুবর্ণগ্রামের আয়শা আপার কাছে যাইতে। গেলে কিছু একটা হইতে পারে। আমি কোনো উপায় না পাইয়া মাইয়্যা আর নাতি নিয়া সেখানে যাই। আমাগো সব কথা শুইনা সে সুবর্ণগ্রামে সংবাদ ছাপাই। তাতে আমার মাইয়ার অনেক উপকার হয়।
তিনি আরো বলেন, কিছু দিন আগে এলাকার প্রভাবশালীরা আমার জমিজমা কাইড়া নিয়া যায়। আয়শা আপারে জানাইলে সে আমার হইয়া প্রতিবাদ করেন। তাই যেকোনো সমস্যা হইলেই তার কাছে আগে ছুইটা যাই। সে তার সাধ্যমতো উপকারের চেষ্টা করে।
মানুষের পাশে, বিশেষ করে অসহায় নারীর পাশে ছুটে যাওয়ার কথা বললেন মাদারীপুরের অনেক নারী। খোঁজ নিয়ে ছুটে গেলাম শহরের কলেজ গেটের পাশে দৈনিক সুবর্ণগ্রাম অফিসে। কম্পিউটার টেবিলে বসে শ্যামবর্ণের অল্পবয়সী নারী সংবাদ এডিট করছেন। আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাই। এই এতটুকুন মেয়ের এত পরিচিতি। কৌতূহল আরো বেড়ে যায়, যা শুনে এখানে এসেছি তা কি সত্য, না সব বাড়িয়ে বলা! ভেতরের একটা রুমে ওই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এ বি এম বজলুর রহমান মন্টু খান বসে আছেন। তাকে আমি আগে থেকেই চিনি। তাই ঢুকে পড়লাম তার রুমে। কুশল বিনিময় করে জানতে চাইলাম বার্তা সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকার কথা।
তিনি জানালেন, আয়শা সিদ্দিকার অকান্ত পরিশ্রমের কথা। কবিতা লিখতে এসেই দৈনিক সুবর্ণগ্রামের সাথে পরিচয় আয়শা সিদ্দিকার। একজন কবি থেকে পরিশ্রম করে আজকের সাংবাদিক আয়শা সিদ্দিকা। সাংবাদিকতাই যেন তার নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। সেই ২০০১ সাল থেকে সুবর্ণগ্রামের সাথে তিনি জড়িত হন তার কবিতার মাধ্যমে, জানালেন মন্টু ভাই। কবিতা লেখার পাশাপাশি ২০০২ সালের দিকে সুবর্ণগ্রামের নারী পাতায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে ফিচার লেখা শুরু করেন। সেখান থেকেই শুরু তার পথচলা। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ফিচার করে মাদারীপুরের নারীসমাজকে জাগিয়ে তোলার যে কাজ তিনি হাতে নিয়েছেন, তাতে তিনি অনেকটা সফল।
এরপর কথা হয় আত্মপ্রত্যয়ী আয়শা সিদ্দিকার সাথে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন নারী একেবারে শূন্য থেকে কিভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য হওয়া যায়।
এসএসসি পাস করার পর ভর্তি হন স্থানীয় চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয় কলেজে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শুরু করেন কবিতাচর্চা। ইতোমধ্যে পরিচয় ঘটে নানা সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের সাথে। পরিচয় হয় মাদারীপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা সুবর্ণগ্রামের প্রকাশক ও সম্পাদক এ বি এম বজলুর রহমান মন্টু খানের সাথে। তিনি সুযোগ করে দেন দৈনিকটিতে কাজ করার। আয়শা লুফে নেন সেই সুযোগ। ইতোমধ্যে এইচএসসি পাস করেন। কবিতার পাশাপাশি লেখা শুরু হয় প্রবন্ধ-ফিচারের। পরিচয় ঘটে মাদারীপুরের প্রবীণ সাংবাদিক শাহজাহান খানের সাথে। তার আন্তরিক সাহচার্যে লেখালেখির স্পৃহা আরো বেড়ে যায়। সুযোগ আসে একটি জাতীয় দৈনিকে মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার। চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয়ে বিকম শেষ করে ল-তে ভর্তির প্রস্তুতির পাশাপাশি চলতে থাকে সাংবাদিকতা। অনেক বাধা-অন্তরায়। কখনো হুমকিধমকি। মাঝে মধ্যে কর্তাব্যক্তিদের টেলিফোন। কিছুই তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। আয়শা পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবিচল।
জেলা সদর মাদারীপুরসহ উপজেলাগুলোতে বার্তা সম্পাদক ও সাংবাদিক হিসেবে আয়শার নাম ছড়িয়ে পড়ে একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান নারী সাংবাদিক হিসেবে। ছোটবেলা থেকে বই পড়া ও সংগ্রহ করা শখ তার। তার সংগ্রহে উল্লেখযোগ্যসংখক বই রয়েছে। অর্থাভাবে অনেক বই সংগ্রহ করতে পারছেন না। সাধ আছে, সাধ্য নেই।
২০০৮ সালে একুশে বইমেলায় কর্র্নেল খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশন থেকে ‘এক জলকন্যার রিপোর্টের শিরানাম’ নামে একটি কবিতার বই বের হয়। বইয়ের জন্য গাংচিল সাহিত্য পরিষদ থেকে পান পদক, গল্প লেখার জন্য পান সুনীল সাহিত্য বিশেষ পুরস্কার ও মাদারীপুর জেলায় প্রথম নারী সাংবাদিক হওয়ার জন্য আবৃত্তি সংগঠন ‘মাত্রা’ তাকে দেয় বিশেষ সম্মমনা পুরস্কার। এ ছাড়াও ২০১১ সালে জেলায় সফল নারী হিসেবেও তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। আয়শার উদ্যম বেড়ে যায়। বেড়ে যায় মনের সাহস ও উদ্দীপনা। অনেকের মধ্যে পরিচয় হয় পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদের সাথে। শুরু হয় পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন কাজ। একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’-এর। কাজের পরিধি বেড়ে গেলে জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনার সহযোগিতায় নিজেই প্রতিষ্ঠিত করেন নকশিকাঁথা নামের একটি নারীবাদী সংগঠন। নানা অনুষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী বক্তব্য রেখে খুব অল্প বয়সেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন নারী নেত্রী হিসেবে।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

৩ Responses to নয়াদিগন্তে মাদারীপুরের সাংবাদিক আকাশীকে নিয়ে বিশেষ ফিচার বা প্রতিবেদন

  1. I know Up to a women journalist activities feature published to the daily nayadiganto newspaper on 9 April. The feature to be well between to best and bad. But I know, the feature did not written to another feature writer. it’s won writing….

    রিপন চন্দ্র মল্লিক
    ১০-০৪-২০১৩ at ১:১৯ অপরাহ্ণ
    Reply

  2. ok

    poor man
    ১১-০৪-২০১৩ at ৮:৩০ অপরাহ্ণ
    Reply

  3. খুব ভাল সংবাদ। (Very good news. so thanks.)

    কালকিনি ডট নেট
    ১২-০৪-২০১৩ at ১২:৪২ অপরাহ্ণ
    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.