দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

নদীতে ভেসে যাওয়া লাশ উদ্ধারে গিয়ে জীবিত পাওয়া গেল গলার অর্ধাংশ কাটা তরুণীকে

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: কালকিনি,গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,সব সংবাদ |

:: জহিরুল ইসলাম খান ::
‘নদীতে কচুরীপানার ধাপের সাথে এক তরুণীর লাশ ভেসে যাচ্ছে’ এই খবরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ বাঁশগাড়ি লঞ্চঘাটের কাছ থেকে আজ সকাল ৯টার দিকে গলা কণ্ঠনালীর অর্ধাংশ কাটা রেবা নামের এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী ও পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রথমে লাশ ভেবে স্থানীয় লোকজন খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদকে খবর দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে নদীর কিনারে টেনে পাড়ে ওঠানোর কথা বলা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধারের পরে দেখতে পান ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক তরুণীর গলার প্রায় অর্ধাংশ কাটা এবং সে হাত-পা নাড়ার চেষ্টা করছে। পরে পুলিশের গাড়িতে উঠিয়ে দ্রুত তাকে কালকিনির দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পথিমধ্যে থেকে তাকে দ্রুত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই তরুণীর কোন অভিভাবকের সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকেই যাবতীয় চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদ বলেন, লাশ ভেবে ওই তরুণীকে পাড়ে ওঠানোর পর সে কথা বলার চেষ্টা করলেও গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছিল না। তবে তার নাম রেবা এবং বাড়ি কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের উড়ারচর বলে জানা গেছে। আমরা দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়েছি। কি মানবেতর অবস্থা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। মেয়েটির স্বামী কালকিনির উড়ারচরের আক্তার হাওলাদার। শ্বাশুড়ীর সাথে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
ওই গৃহবধূর পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে পাশের দক্ষিণ বাঁশগাড়ি পরিপত্তর গ্রামের জামাই সরোয়ার হোসেন বেপারীর বাড়িতে রেবাকে নিয়ে যান তার শ্বাশুড়ি জুলেখা বেগম। এই জুলেখা বেগম একই ইউনিয়নের উড়ারচর গ্রামের মাজেদ হাওলাদারের স্ত্রী। তার ছেলে অর্থাৎ রেবার স্বামী আক্তার হাওলাদার মুন্সীগঞ্জে থেকে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তাদের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
গতকাল রাতে রেবা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম ও ননদ জামাই সরোয়ার হোসেন বেপারীসহ অন্যরা নদীর পাড়ে নিয়ে গলা কেটে মারা গেছেন ভেবে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভাসিয়ে দেন। এরপর কণ্ঠনালী কেটে যায় রেবা আক্তার কোন শব্দ না করতে পারলেও একটি কচুরীর ধাপের উপর ভেসে থাকেন। মূলত অপুষ্টিজনিত শরীরে ওজন অস্বাভাবিক কম হওয়ায় গৃহবধূ রেবা নদীর পানিতে কচুরিপানার ধাপের উপর ভেসে থাকবে পেরেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
সরেজমিন সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, মাদারীপুর থেকে বরিশাল মেডিকেল নেয়ার জন্য রেবা বেগমকে এ্যাম্বুলেন্সে ওঠানো হয়েছে। এ সময় রেবা বেগম গো গো করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিলেন পুলিশ, ডাক্তার ও আশ-পাশের লোকজনকে। কিন্তু তার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছিল না। পরে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবকরা তার মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগিয়ে দেন।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হোসাইন জানান, ওই তরুণীর শ্বাসনালীর অর্ধেক অংশ কাটা এবং অবস্থা গুরুতর বিধায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেবা’র পরিবার খুবই দরিদ্র। তার বাবা আব্দুল হামিদ মাদবর খুবই অসুস্থ। গত ছয় মাস ধরে ঘরে পড়া। বেশ কিছুদিন ধরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রেবার সাথে তার শ্বাশুড়ির বিরোধ চলে আসছিল।
রেবার মা লালমতি বেগম জানায়, আছরের আগে জুলেখা বেগম জামাই বাড়ি বেড়াতে যায়। তার জামাইরা দুই ভাই। ওই বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তারা কয়েকজন মিলে ধরে জবাই করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। ঘাড়ের দুই পাশের রগ না কাটায় সে বেছে গেছে।
রেবার মেয়ে ঝুমা জানায়, লঞ্চে উঠে আমার আর দাদি বেড়াতে গেছে। সকাল বেলা পুলিশের কাছ থেকে আমরা খবর পাই।
কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্দু বালা ও খাসেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেবার শ্বাশুড়ি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের উড়ারচর গ্রামের মাজেদ হাওলাদারের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও পাশের গ্রামের তার মেয়ে জামাই দক্ষিণ বাঁশগাড়ির পরিপত্তর গ্রামের সরোয়ার হোসেন বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ। মূলত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজন নাম বলেছে রেবার শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *