দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

অবহেলিত মাদারীপুরের খাগদী-শ্রীনদী সড়ক, দুর্ভোগে ৮ থেকে ১০টি ইউনিয়নের মানুষ

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,মাদারীপুর,সব সংবাদ |

জহিরুল ইসলাম খান, আজগর হোসেন ও ফয়সাল বাপ্পী: নির্মাণের পর থেকেই অবহেলিত মাদারীপুর-শ্রীনদী সড়কটি অর্থাৎ খাগদী থেকে শ্রীনদী পর্যন্ত এই সড়কটি বছরের বেশির ভাগ সময়ই থাকে ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ বছর পর পর মেরামত করা হলেও তার মান নিয়েও প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এই সড়ক দিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ শাজাহান খানের গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। যেতে হয় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খানের বাড়ি। স্থানীয় সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠান সারা দেশে কাজ করে তার ঢাকা বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বাড়িও যেতে হয় এই সড়ক ধরে। স্থানীয়রা ইজিবাইক, মাহিন্দ্র বা মোটরসাইকেল বা ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাওয়ার সময় ক্ষমতাবান ও জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের টেন্ডার হয়ে গেছে, শীঘ্রেই মেরামত কাজ হবে। তবে ইতিপূর্বে এই সড়কের খাগদী থেকে হাউসদী পর্যন্ত মেরামত করা হয়। মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এই সড়ক মেরামত করা হয় দীর্ঘ প্রায় এক বছরের বেশি সময় কাজ ফেলে রেখে। হাউসদী থেকে শ্রীনদী পর্যন্ত এই ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে-চুরে একাকার হয়ে গেছে। জনগণের দাবী, অন্যান্য সব জায়গায় একটি সড়ক পুরো মেরামত বা সংস্কার হয় কিন্তু এই সড়কটি মেরামত হয় খুড়িয়ে খুড়িয়ে। যেমন হাউসদী পর‌্যন্ত মেরামত হয়েছে। বাকি অংশ কবে নাগাদ সংস্কার হবে তা অনিশ্চিত।

দৈনিক বিশ্লেষণ-এর প্রতিনিধি ফয়সাল বাপ্পী শিরখাড়া থেকে ঘুরে এসে জানান, আনন্দময় ঈদ নিরানন্দে কেটেছে হাউসদি থেকে শ্রীনদীগামী যাত্রীদের। সড়ক করুণ দশার ফলে এবার ঈদমুখী মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। মাদারীপুর সদরের ঈদের পূর্বে আর ঈদ পরবর্তী সময়েও বৃষ্টিপাতকে ঘিরে শ্রীনদি- হাউসদি দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। যা চলাচলের অযোগ্য বললেই চলে। যাতে করে সাধারণ লোকজনের দুর্ভোগ আর দুর্গতি চরম পর্যায়ে পৌছেছে। হাউসদি, মিঠাপুর, কালিরবাজার, নতুন রাজার হাট, শিরখাড়া, শ্রীনদি গ্রামগুলোর সড়কগুলোতে কর্দমাক্তে ছেয়ে গেছে। এছাড়াও কালির বাজার, মিঠাপুরে সড়কসহ বিশাল এলাকার সড়ক-উপসড়কের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে ফের জলাবদ্ধতাসহ গর্ত। এসব দেখার কেউ না থাকায় এ দুর্ভোগ-দূর্গতিতে ভোগতে হচ্ছে এলাকার অসহায় লোকজনদেরকে। যেন গ্রামগঞ্জের লোকজনের এবারের ঈদ আনন্দ নিরানন্দে কেটেছে এমন অভিযোগ ঈদমুখী মানুষজনের। কিছু কিছু সড়কে বৃষ্টির পানি রাস্তার কাদার সাথে মিশে জলকাদায় ভরে গেছে। মিঠাপুর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও পড়ছে বিপাকে যাতায়াত সড়কটিতে খানা খন্দকে ভরপুর। যাতে করে যানবাহনের চালকরা যাত্রীবাহী যানবাহন চালাতে গিয়ে নানাভাবে বিপাকে পড়েছে। পাশাপাশি যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

একাধিক যাত্রীদের ক্ষোভের ভাষায় বলতে শোনা যাচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে সড়কের এই অবস্থা।বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত আর কাঁদা জলে ভরপুর থাকে। সড়কটির প্রায় জায়গায় ছোট বড় গর্ত হওয়ার ফলে প্রায়শঃ দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানিতে সড়কের বড় বড় গর্ত গুলো দেখা না যাওয়ার ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অবিলম্বে এলাকাবাসীর দাবী, জরুরী ভিত্তিতে সড়কের বাকী অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে লোকজন ও যানবাহন চলাচলের সুবিধা প্রদানের।

দুধখালী থেকে দৈনিক বিশ্লেষণ-এর প্রতিনিধি আজগর হোসেন জানান, মাদারীপুরের খাগদী থেকে শ্রীনদী পর্যন্ত এই সড়কটিতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর, দুধখালী, কুনিয়া, বাহাদুরপুর, শিরখাড়া, ধুরাইল, কালিকাপুর, ছিলারচর, রাজৈরের ইশিবপুর, বদরপাশা, শিবচরের নিলখী, বাঁশকান্দি, শিরুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।
এই সড়কেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চরমুগরিয়া বন্দর, হাউসদী বাজার, মিঠাপুর বাজর, মিঠাপুর স্কুল, কালিরবাজার, রাজারহাট, শিরখাড়া ও শ্রীনদী বন্দর। অথচ এই এলাকাকেই জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেয়া হয়।
ভাঙ্গাচোরো হওয়ায় এই সড়কে ইজিবাইকে যেতে প্রায় দ্বিগুন সময় লাগে। ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে জনগণের জানের দফারফা হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত মেরামত করার দাবী জানিয়েছেন।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *