দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

মাদারীপুরে পুরনো মামলার অজ্ঞাত আসামী শিবচরের বিএনপি’র ১৭ নেতা-কর্মী!

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,সব সংবাদ |

মাদারীপুরে বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান থেকে বিএনপি ও যুবদলের ১৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পর দুটি পুরাতন মামলায় অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরনো মামলায় অজ্ঞাত আসামীর স্থলে এসব নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনগত প্রতিকার দাবী করছেন ভূক্তভোগীদের পরিবার।
বিএনপি’র দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ঘোষিত সদস্য সংগ্রহের জন্য ফরম পূরণ ১৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতারা একত্রিত হয় চরগুয়াতলা এলাকায়। সেখানে প্রধান অতিধি হিসেবে ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী হুমায়ন কবির। কর্মসূচি চলাকালীন সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশের অভিযানে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম মৃধাসহ ১৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানা পুলিশ। এরপর বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের পুরাতন মামলার অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৬ আগস্ট জেলা দায়রা আদালতে আসমীদের হাজির করা হয়। এ সময় চীফ জুডিশিয়াল আলাদতের বিচারক জাকির হোসেন তাদরে জামিন নামঞ্জুর করে দেয়। পরে ১০ আগস্ট অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করা হলেও পুনরায় তাদের আসমী দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত।
আদলত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ মে ২০১৬ তারিখে শিবচরের পাঁচ্চরে দুপক্ষের সংঘর্ষ বজলু মাদবর ও এএসআই তৌহিদুজ্জামান বাদীকৃত দুটি মামলায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে এই মামলাতে গত ১০ তারিখ জামিন মঞ্জুন করে আদালত। পরে ওই মামলার আসামীদের পূনরায় হাজির করা হলে আদালত মামলার পরবর্তী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করে।
শিবচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম মৃধার ভাই শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে অন্যদের সাথে আমার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলো। তাকে পুরনো ২টি মামলার অজ্ঞাত আসামীর স্থলে আসামী করে আদালতে পাঠানো হয়। সে এখন জেলহাজতে। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার দাবী করছি।
মাদারীপুরের জেলা যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের আটক করে থানা নিয়ে যায়। পরে পুরাতন একাধিক মামলার আসামী বানিয়ে কারাগারে পাঠায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।
আটককৃত নেতা-কর্মীদের পক্ষের আইনজীবী জামিনুর হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ১৭ জন নেতাকর্মীকে আসামী করে কারাগারে পাঠানো হয়, তাদের জামিন নামঞ্জুর করা। পরে শুনানি শেষে জামিন দিলেও আবার একই মামলায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আসামী করেছে বাদী পক্ষ। ফলে নিরাপরাধ এ সকল ব্যক্তি বিনাঅপরাধে কারাগার ভোগ করতে হচ্ছে।’
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন, ১৭ জনের বিরুদ্ধে পুরাতন কয়েকটি মামলা ছিলো। পরে তাদের কোর্টে চালান করে দেয় পুলিশ। তবে তাদের ব্যক্তি নামে মামলা ছিল না, ছিল অজ্ঞাত আসামীদের নামের স্থানে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *