দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

কুকুরের উৎপাতে অতিষ্ঠদের প্রশ্ন: মানুষের জীবনের চেয়ে কুকুরের মূল্য বেশি?

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,সব সংবাদ |

জহিরুল ইসলাম খান: মাদারীপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার নতুন বাজারের পাহারাদার আমজাদ সরদার (৪৫) কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নির্মমভাবে মারা যান। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দশ মাসে ২ হাজার ৬শ’ ৬০ জন রোগী সদর হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে পাহারা দিতে গেলে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর তাকে কামড় দেয়। কিন্তু কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন না নিয়ে তিনি কবিরাজী চিকিৎসা করান। দীর্ঘ এক মাস পর তার শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থাতেই নির্মমভাবে তার মৃত্যু হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে মাদারীপুর শহরের শতকরা ১০ শতাংশের বেশি কুকুরের শরীরে দগদগে ঘা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পথ চলতে গিয়ে এসব কুকুর দেখে এতে চরম ঘৃণার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এছাড়া এসব কুকুর অবাধে যেখানে সেখানে চলাফেরা করার কারণে ভয়াবহ রোগ-জীবানুর বিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় দল বেঁধে ১৫ থেকে ২৫টি বেশি কুকুরেরও অবস্থান দেখা যায়। নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় কামড়ের ভয়ে জনগণকে রাস্তা থেকে সরে দাড়াতে হয়।
এমনকি মাঝ রাতে রাস্তায় থাকা কুকুরের দলের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা ঝগড়া হয়। তখন দীর্ঘ সময় কুকুরের প্রচন্ড ঘেউ ঘেউ শব্দে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, কোন কুকুরকে টিকা দেয়া হয়েছে আর কোনটিকে টিকা দেয়া হয়নি তা বোঝার উপায় নেই। তাই যে কোন কুকুরে কামড় দিলেই বাধ্য হয়ে টিকা নিতে হয়। কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কুকুরে কামড়ে আহত হওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। এছাড়া কুকুরের প্রজনন মৌসুমে নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে রাস্তাঘাটে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এছাড়াও কুকুরের ধাওয়া থেকে রক্ষার জন্য দৌড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মাদারীপুরের নতুন শহর এলাকার বাসিন্দা রায়হান খান বলেন, মানুষের বসতির মধ্যে যদি কুকুর বসবাস করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে কি করতে হবে। অন্তত বিকল্প বেছে নিতে হবে। হয় মানুষ বাঁচবে, না হয় কুকুর। সরকারের পক্ষ থেকে যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বা মূল্যহীন। এতে যেমন সম্ভব হচ্ছে না কুকুরের প্রজনন রোধ, তেমনি সম্ভব হচ্ছে না সকল কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে জলাতঙ্কের জীবাণু প্রতিরোধ। তাহলে কি হলো? কুকুর থাকবে, মানুষকে কামড়াবে, জলাতঙ্কে মানুষ মরবে! তাহলে কী মানুষের জীবনের চেয়ে কুকুরের জীবনের মূল্য বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মাদারীপুর শহরের কলেজরোড ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে একদিনেই অন্তত ২০ জন আহত হয়। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শহরের চৌরাস্তা এলাকাতেও একদিনে অন্ততপক্ষে ৮ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর।
এর আগে কালকিনির পৌর এলাকা, এনায়েতনগর ও শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে ১৮ জনকে কুকুরে কামড়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ৮টি কুকুর পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এর দুই বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার দারাদিয়া গ্রামের সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু মিমকে পাগলা কুকুরে কামড় দেয়ার ২ মাস পর সে পাগলের মত আচরণ শুরু করে এবং ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালে অবস্থিত জেলা জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী মোহাম্মদ সামসুদ্দিন জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দশ মাসে ২ হাজার ৬শ’ ৬০ জন রোগী সদর হাসপাতাল থেকে কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গত অক্টোবর মাসেই ৩২০ জন মানুষকে জলাতঙ্কের ভ্যানসিন ইনজেকশন দেয়া হয়।
মাদারীপুরের পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে কুকুর নিধন কার্যক্রম ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর কুকুর মারা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এখন তাই শহরের রাস্তা-ঘাটে কুকুরের উপদ্রব হলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে করার কিছুই নেই।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *