দৈনিক ২৪ ঘন্টা, সপ্তাহে ৭ দিন সর্বশেষ সংবাদ নিয়ে

মাদারীপুর ২৪ ডটকম

Ruposhi Online

উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানে বিস্মৃত এক শহীদ মাদারীপুরে মহানন্দ সরকার

সংশ্লিষ্ট বিভাগ: গুরুত্বপূর্ণ খবর,প্রধান সংবাদ,সব সংবাদ |

জহিরুল ইসলাম খানউনিশশো উনসত্তর সালের গণঅভ্যূত্থানে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে কনিষ্ঠ এক শহীদ তৎকালীন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উল্লাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মহানন্দ সরকার। প্রায় বিস্মৃত এই শহীদকে এবার বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে স্মরণ করলো এলাকাবাসী। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আন্দোলনকারী দু’ছাত্রকে আটকদের পর ছাড়িয়ে আনতে উপরে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় শহীদ হন মহানন্দ সরকার।
এবার শহীদ মহানন্দ সরকারের পৈত্রিক নিবাস রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পলিতা গ্রামে শহীদ মহানন্দ স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মরণসভা ও কবিগানের আয়োজন করা হয়।
শহীদ মহানন্দ সরকারের সহপাঠি ও গণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রমেশ চন্দ্র মন্ডল, কুমুদ রঞ্জন সরকার ও হরেন্দ্রনাথ পান্ডে জানান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলনের ঢেউ ওঠে। উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানের সময় পহেলা ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জলিরপাড় এলাকার হাট-বাজার বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় জলিরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী দুই ছাত্রকে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয় স্থানীয় তহসিল অফিস টোলঘরের পুলিশের ফাঁড়িতে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী আশ-পাশের উল্লাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, সাতপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, বেদগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয় ও গোহালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আটক দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের অভিযান চালায়। তারা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কোণঠাসা করে ফেলে। এ সময় মাদারীপুরের উল্লাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মহানন্দ সরকার সহপাঠীদের নিয়ে ওই টোলঘরের জানালা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন মহানন্দ সরকার। আহত হন আরো দু’জন। আজও সেই দিনের সেই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে আবেগে-আপ্লুত হয়ে পড়েন শহীদ মহানন্দ সরকারের স্কুলের শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা।
শহীদ মহানন্দের চাচাতো ভাই সিন্ধুভূষণ সরকার বলেন, এমন উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে এই কনিষ্ঠ শহীদের নেই রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি। তবে শহীদ মহানন্দ সরকারের পরিবারের স্বজন ও এলাকাবাসী তার এই অবদানে গর্বিত এবং নিজেদের উদ্যোগেই এলাকার তরুণ প্রজন্ম ধরে রাখতে চায় তার স্মৃতি।
শহীদ মহানন্দ সরকারের ভাতিজা ও ঢাকার খিলগাও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার বলেন, পুলিশের গুলিতে নিহত মহানন্দ সরকারের লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। শেষকৃত্যের জন্য আত্মীয়স্বজনের কাছে তার লাশও ফেরত দেয়নি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান পুলিশ। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শহীদ মহানন্দ সরকার স্মরণে একটি স্মৃতিসংঘ নির্মাণের জন্য ১ হাজার টাকাও প্রদান করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ মহানন্দের স্মৃতি ধরে রাখা উদ্যোগ গ্রহণের দাবী তার স্বজনদের।
রাজৈরের পলিতা গ্রামে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ মহানন্দ সরকারের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সহপাঠী ও শহীদ মহানন্দ স্মৃতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক  রমেশ চন্দ্র মন্ডল, সহপাঠী ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কুমুদ সরকার, হরেন্দ্রনাথ পান্ডে, খিলগাও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকারসহ স্থানীয়রা।
উনসত্তরের গণআন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম কনিষ্ঠ এই শহীদ মহানন্দ সরকারের নেই রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি। শহীদ মহানন্দ সরকারের স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবী রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি স্থাপন করা হোক কোন স্মৃতিস্তম্ভ।

QR Code - Take this post Mobile!
Use this unique QR (Quick Response) code with your smart device. The code will save the url of this webpage to the device for mobile sharing and storage.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *